বা’ল্য’বিয়ে পড়াতে রাজি না হওয়ায় ইমামকে বে’দম মা’র’ধ’র!
বা’ল্য’বিয়ে পড়াতে রাজি না হওয়ায় ইমামকে বে’দম মা’র’ধ’র!

বা’ল্য’বিয়ে পড়াতে রাজি না হওয়ায় ইমামকে বে’দম মা’র’ধ’র!

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে অপ্রাপ্ত বয়স্ক কনের বিয়ে পড়াতে অপরগতা প্রকাশ করায় বেদম মা’রধ’রের শিকার হয়েছেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের গণশিক্ষা বিভাগের শিক্ষক ও মসজিদের ইমাম মাওলানা আবুল কালাম আজাদ।
এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে জানাজানির পর বর্তমানে তীব্র নিন্দার ঝড় বইছে সর্বত্র। শুক্রবার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার পাইকপাড়া উত্তর ইউনিয়নে ঘটনাটি ঘটে।
পরে মান-ইজ্জতের এমন ভয়ে বিষয়টি মসজিদের ওই ইমাম গোপন রাখলেও শনিবার (৯ জানুয়ারি) মা’র’ধ’রের পর ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধে উল্টো থানায় আগাম অভিযোগ করেছেন মসজিদ কমিটির সাবেক সভাপতি অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান দুলাল (৫০)।
দুলাল নিজেকে ডিএমপির অধীনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা বিভাগে কর্মরত আছেন বলে দাবি করেন। ঘটনার বিবরণে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, শুক্রবার দুলালের ভাই জাহাঙ্গীরের মেয়ের বিয়েতে মসজিদের ইমাম আবুল কালাম আজাদকে দাওয়াত দেওয়া হয়।
দাওয়াতে অংশ নিতে গেলে দুলাল তার বাড়ির সম্মুখে বিয়ে সংক্রান্ত বিষয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ইমামকে বেদম মারধর করে আহত করেন। মা’রধ’রের কারণ জানতে মসজিদের বেশ কিছু মুসল্লী দুলালের বাড়ির সামনে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তাদের অতর্কিত হা’ম’লায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী আহমেদ, মাওলানা আবু জাফর (৫৫), গোলাম কিবরিয়া, শাহাদাৎ হোসেন, নেছার পাঠানসহ বেশ কয়েকজন মুসল্লী আ’হ’ত হন।

মা’রধ’রের শিকার ইমাম আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমি জাহাঙ্গীরের মেয়ের বিবাহ পড়াতে গেলে অপ্রাপ্ত বয়স্ক বিধায় বিয়ে অপরগতা প্রকাশ করায়, কোন কিছু না বলেই জাহাঙ্গীরের ভাই দুলাল আমাকে মা’রধ’র করে।
বিয়েতে আগত মেহমানরা প্রতিবাদ করায় তাদেরকেও মা’রধ’র করে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠ বিচার দাবী করছি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের কাজী মো. শাহ্ আলম বলেন, আমি নিকাহ রেজি: করতে গিয়েছি, মেয়ে অপ্রাপ্ত বয়সের বিধায় নিকাহ্ রেজি: না করেই চলে এসেছি।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মসজিদ কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার সাদাত বলেন, দুলাল এবং তার ভাইয়েরা বরাবরই উগ্র। দুলাল নিজেকে পুলিশের লোক পরিচয় দিয়ে এলাকার মানুষকে শাসিয়ে বেড়ায়।
তার ভাই আলমগীর মার্শাল কোর্টে শাস্তি প্রাপ্ত হয়ে চাকুরীচ্যুত হয়েছেন। তিনিও নিজেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর লোক বলে জাহির করে বেড়ান। শুক্রবার তারা মারধর করে তারাই আবার থানায় অভিযোগ করেছেন। আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় গ্রহণ করবো।
এ বিষয়ে জানতে গেলে দুলালের ভাই জাহাঙ্গীর সাংবাদিকদের সাথে অশোভন আচরণ করেন। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপহরণ চেষ্টা এবং চাঁদাবাজির অপবাদ দেন। দুলালের অপর ভাই আলমগীর নিজেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে থাকেন বলে পরিচয় দেন।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শহীদ হোসেন বলেন, এই বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।